ভারতে স্বর্ণের চাহিদা আরো কমেছে, মূল্যছাড়েও বাজারে মন্দা ভাব

ভারতে স্বর্ণের রেকর্ড দাম বাড়ার কারণে চাহিদা আরো কমেছে। এ কারণে বিক্রেতারা মূল্যছাড় বাড়ালেও বাজারে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারতে স্বর্ণের রেকর্ড দাম বাড়ার কারণে চাহিদা আরো কমেছে। এ কারণে বিক্রেতারা মূল্যছাড় বাড়ালেও বাজারে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চীনসহ এশিয়ার অন্য প্রধান বাজারগুলোয়ও উচ্চমূল্যের কারণে স্বর্ণ কেনাবেচা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।

ভারতের বাজারে গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় প্রতি আউন্স স্বর্ণে সর্বোচ্চ ১০ ডলার পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছেন, এর আগের সপ্তাহে যা ছিল সর্বোচ্চ ৮ ডলার। উল্লেখ্য, ভারতে সরকারি মূল্য নির্ধারণে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত থাকে।

কলকাতার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘দেশজুড়ে গহনার দোকানগুলোয় ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। তারা দাম আরো কমে আসার অপেক্ষায় আছেন।’

ভারতের বাজারে শুক্রবার প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ৫০০ রুপি। এর আগে দেশটিতে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১ হাজার ৭৮ রুপিতে পৌঁছেছিল।

মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি ব্যাংকের বুলিয়ন ডিলার বলেন, ‘চাহিদা নিম্নমুখী থাকায় ছাড় আরো বাড়তে পারত। তবে আমদানি হঠাৎ কমে যাওয়ায় সরবরাহও সীমিত হয়ে পড়েছে।’

জুনে ভারতে স্বর্ণ আমদানি ৪০ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২১ টনে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ চীন। গত সপ্তাহে দেশটির ডিলাররা প্রতি আউন্সে ৫ ডলার ছাড় থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করে স্বর্ণ বেচাকেনা করেছেন। আগের সপ্তাহে মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ছিল ১০-২৫ ডলার।

উইং ফাং প্রিশিয়াস মেটালসের হেড অব ডিলিং পিটার ফাং বলেন, ‘চীনে বর্তমানে স্বর্ণ ক্রয়ের প্রবণতা কমেছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বাজার কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে। তবে অক্টোবর থেকে আবার চাহিদা বাড়তে পারে।’

হংকংয়ে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১-২ ডলার মূল্য সংযোজন করে। সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক দামের সমান বা আউন্সে সর্বোচ্চ ২ ডলার ২০ সেন্ট মূল্য সংযোজন করে বেচাকেনা হচ্ছে। জাপানে স্বর্ণের দাম ৫০ সেন্ট ছাড় থেকে ১ ডলার মূল্য সংযোজনের মধ্যে ওঠানামা করছে।

আরও